CARD 01 / 16

নস্টালজিয়া

বায়োস্কোপ—
চোখের জায়গা একই আছে বদলেছে শুধু দেখার পদ্ধতি

১৮৯৫ সালের সেই গ্রামীণ বিনোদন আজ রূপ বদলে ইউটিউব আর ভিআর বক্সে। বায়োস্কোপ আসলে কখনোই মারা যায়নি।

মূল তথ্য

গ্রামের মানুষের কাছে বায়োস্কোপওয়ালাই ছিলেন প্রথম জাদুকর। টিনের বাক্সের ফুটো দিয়ে চোখ রাখলেই এক নিমেষে চোখের সামনে ভেসে উঠত পুরো এক অচেনা জাদুকরী দুনিয়া

গ্রামের মেঠো পথ ধরে ডুগডুগি বাজাতে বাজাতে তিনি আসতেন। শব্দ শুনেই ছোটদের মাঝে উৎসবের সাড়া পড়ে যেত। লাল কাপড়ে মোড়ানো সেই কাঠের বাক্সটা ছিল সবার কাছে এক বিশাল বিস্ময়। জমানো দুয়েকটা পয়সা দিয়ে সেই জাদুর দুনিয়ায় উঁকি দেওয়ার জন্য কাড়াকাড়ি লেগে যেত।

কাঁচের লেন্সের ভেতর চোখ রাখতেই শুরু হতো স্বপ্নের যাত্রা। হাতলের টানে একে একে বদলে যেত রঙিন ছবি। মক্কা মদিনা থেকে শুরু করে আজব সব দেশের দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠত। সাথে বায়োস্কোপওয়ালার সেই সুর করে বলা অদ্ভুত গল্প। মনে হতো যেন ধুলোমাখা উঠোনে দাঁড়িয়েই পুরো পৃথিবী ঘুরে ফেলা যাচ্ছে

পরিচিতি

শুধু কাঠের বাক্স নয় –
একটি আস্ত রূপকথার জগত

২-৪আনা

স্বপ্নের টিকিট

বাবার কাছ থেকে বায়না করে নেওয়া কয়েক আনা পয়সাতেই মিলে যেত এই জাদুর দুনিয়ায় প্রবেশের চাবি

৪-৬টি

কাঁচের লেন্স

কাঠের বাক্সের গায়ে লাগানো সেই গোল গোল কাঁচের ফুটো। একসাথে কয়েকজন বন্ধু মিলে উঁকি দিয়ে অচেনা পৃথিবী দেখার রোমাঞ্চ।

জাদুকরীসুর

ছন্দে ছন্দে গল্প

"কী চমৎকার দেখা গেল!" ছবির সাথে হাতল ঘুরিয়ে বায়োস্কোপওয়ালার সেই ছন্দ মেলানো বর্ণনা আজও যেন কানের কাছে বাজে

দুপুরের কড়া রোদ কমলেই বটতলায় ভিড় জমতো। বিশেষ করে ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ এর দশকে গ্রাম বাংলায় এটি ছিল বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। চেনা মানুষটি কবে ঘাড়ের ওপর ২৫ থেকে ৩০ কেজির ভারী কাঠের বাক্স নিয়ে আসবে সেই অপেক্ষায় দিন গুনতো সবাই। এটি শুধু সময় কাটানোর উপায় ছিল না, ছিল সাধারণ মানুষের একসাথে আনন্দ করার সবচেয়ে বড় উৎসব।

তখন ঘরে ঘরে টেলিভিশন বা ইন্টারনেট ছিল না। এই বাক্সটাই ছিল বাইরের পৃথিবীর একমাত্র জানালা। বায়োস্কোপের ভেতর দিয়ে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান কিংবা মুক্তিযুদ্ধের স্থিরচিত্র দেখে মানুষের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে যেত। কখনো আবার ভেসে উঠত সুদূর লন্ডনের রাস্তা বা আগ্রার তাজমহল। নিজেদের চেনা গণ্ডির বাইরেও যে বিশাল এক জগত আছে, তার প্রথম স্বাদ মিলেছিল এখানেই।

আজ সময়ের সাথে বিনোদনের মাধ্যম পুরোপুরি বদলে গেছে। সাদাকালো টিভি পেরিয়ে স্মার্টফোনের রঙিন পর্দা এখন হাতের মুঠোয়। সেই মানুষটি আজ আর মেঠো পথে হাঁটেন না। তবে তার দেখানো পথ ধরেই ১৯১৩ সালে ঢাকার আরমানিটোলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম সিনেমা হল পিকচার হাউজ। পুরনো সেই শিকড়েই দাঁড়িয়ে আছে আমাদের বর্তমান মাল্টিপ্লেক্সের দুনিয়া।

204519_11
Uday-Kumar-Pandit-Open-Day_2009_Khoj-Bihar_-19-scaled

আরও জানুন—
অজানা বিস্ময়

জানতেন কি?

হীরালাল সেনের জাদুকরী শুরু

স্যার জগদীশচন্দ্রের মতোই হীরালাল সেন এক বিস্ময়। ১৮৯৮ সালে তিনিই এই বাংলায় প্রথম বায়োস্কোপের মাধ্যমে চলন্ত ছবি দেখিয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই আমাদের এই অঞ্চলে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়।

মজার তথ্য

২০০ ফুটের রঙিন জগত

একটি বায়োস্কোপের বাক্সে যে ছবির রিল বা স্ক্রল থাকতো, তা লম্বায় হতো প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট। বায়োস্কোপওয়ালারা হাতল ঘুরিয়ে এই বিশাল রিল থেকেই একের পর এক গল্প শোনাতেন।

হারিয়ে যাওয়ার পথে

বিলুপ্তপ্রায় এক লোকজ শিল্প

বর্তমানে পুরো বাংলাদেশে হাতেগোনা মাত্র ৪ থেকে ৫ জন বায়োস্কোপওয়ালা টিকে আছেন। আধুনিক প্রযুক্তির চাপে ১৯ শতাব্দীর এই জনপ্রিয় বিনোদন মাধ্যমটি আজ শুধুই জাদুঘরের স্মৃতি হওয়ার অপেক্ষায়।

শিকড়ের সংগ্রহ

এই কার্ডগুলো শুধু কাগজ নয় — এগুলো আমাদের শিকড়, আমাদের গল্প। প্রতিটি কার্ডের পেছনে লুকিয়ে আছে প্রাইম ব্যাংক ফাউন্ডেশনের বদলে দেওয়া একটি জীবনের কথা। উল্টে দেখুন — ভেতরে অনেক কিছু আছে।

আপনি মাত্র আমাদের ১ম কার্ডটি দেখছেন!

মোট ৪টি কার্ড সংগ্রহ করে জিতে নিন আকর্ষণীয় মানবিক পুরষ্কার!

Since 2002, Prime Bank Foundation has been Bangladesh’s most consistent social investor – funding eye hospitals, nursing colleges, education programmes, and emergency response without ever seeking the spotlight.

This campaign is about changing that. The work deserves to be seen. The
legacy deserves to be held.

Collect Bangladesh launches – PBF’s most ambitious cultural campaign to date.

2024

First nursing college inaugurated, creating a new pipeline for healthcare workers.

2015

First major eye surgery programme launched, ultimately funding over 20,000 procedures.

2008

Prime Bank Foundation established with a mandate for social impact across Bangladesh.

2002

20K+

Eye surgeries funded since 2008

22+

Years of unbroken social investment

64

Districts reached by PBF
programmes

3

Nursing colleges established
nationwide