CARD 02 / 16
প্রাকৃতিক বিস্ময়
রেডিও —
ইন্টারনেটের আগের যুগের সবচেয়ে আপন নেটওয়ার্ক
একসময় মানুষের অনুভূতি, খবর আর বিনোদনের একমাত্র রসা ছিল এই একটি বাক্স!
মূল তথ্য
১৯৭১ সালের যুদ্ধ বা ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়। বিপদের সংকেত আর বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা ছিল এই রেডিও।
রেডিও শুধু কাঠের বাক্স ছিল না। ষাটের দশকে এটি ছিল প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্য। ইন্টারনেট আসার অনেক আগে এই যন্ত্রটি পুরো পৃথিবীকে বেঁধে রেখেছিল। ফিলিপস বা গ্রান্ডিগ রেডিওর চারপাশে পুরো পরিবার উঠোনে বসে তাজা খবর আর গান শুনত। মানুষের সাথে মানুষের সংযোগ তখন গভীর ছিল।
এটি শুধু বিনোদন দেয়নি বিপদে পথও দেখিয়েছে। ১৯৭১ সালের সেই কঠিন দিনগুলোতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ছিল কোটি মানুষের সাহস। এম আর আখতার মুকুলের চরমপত্র শুনে মানুষ বাঁচার স্বপ্ন দেখত। কৃষকের কাছে এটি ছিল পরামর্শদাতা। শহরের নির্ঘুম রাতে সঙ্গী ছিল অনুরোধের আসর। সব খবর ঘরে পৌঁছে দিত এই বাক্স।
পরিচিতি
শুধু একটি যন্ত্র না —
একটি সময়ের স্মৃতি
১৫টাকা
বাৎসরিক লাইসেন্স ফি
তখনকার দিনে রেডিও রাখা ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। প্রতি বছর নিয়ম করে ডাকঘরে গিয়ে এই ফি জমা দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে হতো।
২টিকাঁটা
ভলিউম আর টিউনার
একটি দিয়ে শব্দ বাড়ানো হতো আর অন্যটি ঘুরিয়ে চলত স্টেশন খোঁজার লড়াই। ঘড়ঘড় শব্দের মাঝে আকাশবাণী বা বিবিসি ধরার আনন্দ ছিল অন্যরকম।
রাত৮টা
খবরের সময়
ড়ির কাঁটা আটটা ছুঁলেই চারপাশে নেমে আসত পিনপতন নীরবতা। চায়ের দোকান থেকে বাড়ির উঠোন সব জায়গায় সবাই কান পেতে থাকত।
রেডিও শুধু শব্দ শোনাতো না। এটি ছিল ঘরের সবচেয়ে আদরের বস্তু। বসার ঘরে কাঠের আলমারির ওপর এর রাজত্ব ছিল। ধুলো থেকে বাঁচাতে মায়েরা যত্ন করে সুতোর ঘেরাটোপ বানিয়ে দিতেন। বিয়ের উপহার হিসেবেও এর কদর ছিল আকাশছোঁয়া। নতুন বউয়ের সাথে একটি চকচকে রেডিও ঘরে আসা মানেই ছিল অন্যরকম এক আনন্দ।
মাঠে বসে খেলা দেখার সুযোগ সবার হতো না। কিন্তু রেডিও পুরো স্টেডিয়ামকে টেনে আনত ঘরের ভেতর। আবাহনী মোহামেডানের ফুটবল ম্যাচ মানেই রেডিওর চারপাশে টানটান উত্তেজনা। ধারাভাষ্যকারদের গলার ওঠানামায় মানুষের বুক ধুকপুক করত। রেডিওর ভেতর থেকে আসা একটা গোলের চিৎকার পুরো পাড়াকে একসাথে কাঁপিয়ে তুলত।
চিঠিপত্রের আসরগুলো ছিল আরও জাদুকরী। রেডিওর ভেতর থেকে যখন নিজের বা গ্রামের কারও নাম ভেসে আসত, তখন খুশির সীমা থাকত না। দূর গাঁয়ের কোনো এক শ্রোতার অনুরোধে বেজে উঠত পছন্দের গান। মনে হতো রেডিওটা যেন শুধু আমার সাথেই কথা বলছে। এই অদ্ভুত মায়া আজকের কোনো আধুনিক যন্ত্রে পাওয়া বড্ড কঠিন।
আরও জানুন—
অজানা বিস্ময়
জানতেন কি?
বিশাল আকারের ভালভ রেডিও
শুরুর দিকের রেডিওগুলো আজকের মতো ছোট ছিল না। বিশাল কাঠের বাক্সের ভেতরে থাকত কাঁচের ভালভ। এগুলো গরম হতে সময় নিত আর তারপর শব্দ বের হতো।
মজার তথ্য
টিনের চালে অ্যান্টেনার তার
পরিষ্কার শব্দ শোনার জন্য লম্বা তারের অ্যান্টেনা ব্যবহার করা হতো। কখনো কখনো সেই তার জানালার গ্রিল বা টিনের চালের সাথে পেঁচিয়ে দেওয়া হতো ভালো সিগন্যালের আশায়।
সময়ের বিবর্তন
শর্টওয়েভ থেকে পডকাস্ট
একসময় শর্টওয়েভে নব ঘুরিয়ে বিদেশের খবর শোনার এক অদ্ভুত নেশা ছিল মানুষের। আজ সেই তরঙ্গের জায়গা নিয়েছে হাতের মুঠোফোন আর ইন্টারনেটের পডকাস্ট।
- সূত্র: বাংলাদেশ বেতার ও সম্প্রচার ইতিহাস
শিকড়ের সংগ্রহ
এই কার্ডগুলো শুধু কাগজ নয় — এগুলো আমাদের শিকড়, আমাদের গল্প। প্রতিটি কার্ডের পেছনে লুকিয়ে আছে প্রাইম ব্যাংক ফাউন্ডেশনের বদলে দেওয়া একটি জীবনের কথা। উল্টে দেখুন — ভেতরে অনেক কিছু আছে।
আপনি মাত্র আমাদের ১ম কার্ডটি দেখছেন!
মোট ৪টি কার্ড সংগ্রহ করে জিতে নিন আকর্ষণীয় মানবিক পুরষ্কার!
Since 2002, Prime Bank Foundation has been Bangladesh’s most consistent social investor – funding eye hospitals, nursing colleges, education programmes, and emergency response without ever seeking the spotlight.
This campaign is about changing that. The work deserves to be seen. The
legacy deserves to be held.
2024
First nursing college inaugurated, creating a new pipeline for healthcare workers.
2015
First major eye surgery programme launched, ultimately funding over 20,000 procedures.
2008
Prime Bank Foundation established with a mandate for social impact across Bangladesh.
2002
20K+
Eye surgeries funded since 2008
22+
Years of unbroken social investment
64
Districts reached by PBF
programmes
3
Nursing colleges established
nationwide